দেশের পুঁজিবাজারে ২০১৮ সালে তালিকাভুক্তির পর থেকে গত ছয় বছরেও প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যয় করতে পারেনি ওষুধ খাতের কোম্পানি সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। এরই মধ্যে আইপিওর অর্থ ব্যয়ের সময়সীমা পাঁচ দফা বাড়িয়েছে কোম্পানিটি। এবার কোম্পানিটির বিরুদ্ধে আইপিওর অর্থ ব্যয়ে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। আইপিওর অর্থ ব্যয়সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এমন মত দিয়েছেন কোম্পানিটির নিরীক্ষক।
সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালসের গত ফেব্রুয়ারির আইপিওর অর্থ ব্যয়সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিরীক্ষা করেছে পিনাকী অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস। প্রতিবেদনে নিরীক্ষক জানিয়েছেন, গত বছরের ৩১ আগস্ট শেষে আইপিও তহবিলের ৫ কোটি ৪৪ লাখ ৮২ হাজার ৯২৯ টাকা শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের সাতমসজিদ রোড শাখায় এফডিআর হিসেবে গচ্ছিত ছিল। ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর আইপিওর অব্যবহৃত তহবিলের সুদ থেকে ৪৪ লাখ ৮২ হাজার ৯২৯ টাকা একই ব্যাংকের সিডি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেছে কোম্পানিটি। যথাযথ কর্তৃপক্ষের সম্মতি ছাড়া এ ধরনের অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে সিকিউরিটিজ আইনের লঙ্ঘন হয়েছে বলে মনে করছেন নিরীক্ষক।
আইপিওর অর্থ ব্যয়সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি শেষে সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালসের আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের ৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ বা ২ কোটি ৮১ লাখ ৫২ হাজার ৬৩৮ টাকা অব্যবহৃত ছিল। যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি আমদানি বাবদ এ অর্থ ব্যয় করার কথা ছিল। আইপিওর মাধ্যমে কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে ৩০ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ করেছে।
সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস তালিকাভুক্ত হয় ২০১৮ সালে। আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত ৩০ কোটি টাকা ২০২০ সালের এপ্রিলের মধ্যে ব্যয় করার কথা ছিল। যদিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ব্যয় করতে না পেরে ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চার দফা সময় বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ পঞ্চম দফায় আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত আইপিওর অর্থ ব্যয়ের সময় বাড়িয়েছে কোম্পানিটি। আইপিওর অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যয় করতে না পারার কারণ হিসেবে কোম্পানিটি জানিয়েছে, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটেছে এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের ফলে কোম্পানির ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি করেছে। ডলার সংকটের কারণে ব্যাংক যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খুলতে রাজি হয়নি। এ পরিস্থিতিতে কোম্পানি নতুন কারখানা ভবন ও আমদানীকৃত মূলধনি যন্ত্রপাতি স্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে আইপিওর অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হয়নি এবং এজন্য আরো এক বছর সময় বাড়ানো প্রয়োজন।
চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৪৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১২ পয়সা। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ২ পয়সায়।
সর্বশেষ ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে অন্য বিনিয়োগকারীদের জন্য ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালসের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৪৭ পয়সা। আগের হিসাব বছরে ইপিএস ছিল ২৪ পয়সা। গত বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৫৩ পয়সায়।
২০১৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিলভা ফার্মার অনুমোদিত মূলধন ১৫০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৩৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৮৯ কোটি ১০ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৩ কোটি ৬৫ লাখ। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৪৫ দশমিক ২১ শতাংশ শেয়ার। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৫ দশমিক ৭৮, বিদেশী বিনিয়োগকারী দশমিক শূন্য ১ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৩৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার সর্বশেষ ১১ টাকা ৬০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ৮ টাকা ৬০ থেকে ১৯ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে।